1. nssngo@gmail.com : Shahabuddin Panna : Shahabuddin Panna
  2. abdullahamtali@gmail.com : pva : pv a
  3. aramtali@gmail.com : pvabd :
  4. rjmusa1453@gmail.com : Abu Shale Musa : Abu Shale Musa
বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

একজন এ বি এম আচমত আলী আকন।

  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৭ মে, ২০২১
  • ৪০ বার পঠিত

মরহুম এ বি এম আচমত আলী আকন ও আমতলীর আওয়ামি লীগ এক অবিচ্ছেদ্য অস্তিত্ব। সম্প্রতি আমতলীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কেবলমাত্র খুব নিকট অতীতের কতিপয় নেতাদের অবদানের কথা খুব গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হলেও আজ আমরা অনেকেই আমতলীতে আওয়ামী লীগের ঊষালগ্নে দলকে হাজার প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যিনি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তাঁর নাম মুখে আনছিনা বললেই চলে। অথচ তাঁর নিরলস কঠোর সাংগঠনিক তৎপরতায়ই সেসব নিকট অতীতের অলংকৃত বিশেষায়িত নেতারা আওয়ামী লীগের পতাকা তলে আমতলীতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। ভাবতে কষ্টই হয় আমরা কতনা কৃপণ, কতনা অকৃতজ্ঞ আর কতনা আত্মকেন্দ্রীক। একটা যোগ্য দেশপ্রেমিক ও নিবেদিত ত্যাগী ব্যক্তির অস্তিত্বের কথা সহজে ভুলে গেলাম। আমরা কখনো স্হানীয় রাজনৈতিক অবস্হার প্রেক্ষিতে কখনোবা ব্যাক্তিগত স্বার্থ বা পছন্দ অপছন্দের কারনে চমকদার আলোচনার চাদরে সেই নিবেদিত স্বত্বাকে আচ্ছাদিত করে রাখি, মিথ্যে চেষ্টায় অবতীর্ণ হই সত্যকে এড়িয়ে যেতে। অথচ আমরা জানিনা কালের বিবর্তনে আজকের প্রজন্ম তাদের অতীতকে এমনি ভাবে ভুলে যাবে কিংবা উপেক্ষা করবে কি না! আমরা সম্প্রতি কেবল যার গুণকীর্তনে লাভবান তাদেরই অর্চনায় বিভোর। আমরা বর্তমানের তোষামোদের রাজনীতি করছি। ক্ষমতা বন্দনা করছি। অথচ আজকের এই মসৃন পরিবেশ যাদের ত্যাগের ফসল তারা বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে বসেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত নেতারা কখনো ক্ষমতার তোষামোদ করেনা। কারন রাজনীতির প্রকৃত শক্তি নির্গত হয় আদর্শ থেকে।
আমার জানামতে আমতলী আওয়ামী লীগের স্মৃতিচারণ করতে গেলে সর্বপ্রথম যে মানুষটির অবদানের জ্যোতি ছড়িয়ে আমাদের স্মৃতির পর্দায় উদ্ভাসিত হয় এবং যাঁর মহান ত্যাগ তিতিক্ষা ও অবদানের কথা ভেসে উঠে আসে তিনি হলেন আমতলী সর্বসাধারণের সেই সময়ের সবচে নিরাপদ আশ্রয়, বিশ্বাস ও আস্হার স্হল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তি যুদ্ধের সংগঠক পরম শ্রদ্ধেয় মরহুম এ বি এম আচমত আলী আকন। আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি অনেক কণ্টকাকীর্ণ ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। এমনকি মৃত্যু ঝুকি নিয়ে আমতলীতে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আচমত আলী আকনের উত্থানে ঈর্ষান্বিত হয়ে পটুয়াখালীতে বসবাসরত কোন এক স্বার্থান্বেষী মহলের ঈঙ্গিতে আমতলীতে তাঁর অস্তিত্ব মুছে ফেলার জঘন্য নীলনকশা এঁকেছিল। পটুয়াখালীর বনানী হোটেলে তাঁকে নিশ্চিহ্ন করার জন্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। আজকের প্রজন্ম হয়তো সেই ইতিহাস জানেই না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ দয়ায় তখনকার কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতা ও মুজিব বাহিনীর অন্যতম সংগঠক আকন সাহবের ঘনিষ্ট আত্মীয় ও বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন জনাব এডভোকেট গাজী আনোয়ার হোসেন সুকৌশল ব্যবস্থাপনায় বনানী হোটেল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে গোপনে নৌকাযোগে পটুয়াখালী থেকে আমতলী পাঠিয়ে তাঁর জীবন রক্ষা করেন এবং স্বার্থান্বেষী মহলের সেই নীলনকশা ব্যর্থ করে দেন। আর যে কুচক্রী মহল এ বি এম আচমত আলী আকনকে এভাবে নিশ্চিত করতে চেয়ে ছিল তারাই পরবর্তীতে আকনদের নাতি আমতলীর চাওড়ার কৃতি সন্তান মেধাবী ছাত্র বরিশাল বি এম কলেজের ভিপি তুখোড় ছাত্র নেতা নজরুল ইসলামকে অপহরন করে তাঁকে মেরে ফেলেছিল বলে গুঞ্জন ছিল। সেই দুর্বৃত্তদের উদ্দেশ্য ছিল আমতলীতে মেধা শূন্য করে নেতৃত্বহীন করে তোলা এবং সেই শূন্যতায় নিজেদের অস্তিত্ব কে প্রতিষ্ঠা করা। ৭১ পরবর্তী অনেক নেতারাই তাঁদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদানে প্রশংসার দাবীদার এবং তাঁদেরকে বিভিন্ন ভাবে আমতলীর আওয়ামীগের অলংকার হিসেবে গুণকীর্তন করা হলেও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আমতলীর আওয়ামী লীগের এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম এ বি এম আচমত আলী আকন সাহেবের নাম আমারা কেউ কেউ মুখে আনতে কেমন যেন একটু উদাসীনতা দেখাই। অথচ দুঃসময়েও তাঁদের আবাদি ফসল আজকের আমতলীর আওয়ামী লীগ ভোগ করলেও কৃতজ্ঞতায় রয়েছে যথেষ্ট কার্পণ্য। আমাদের মনে রাখা উচিৎ ইতিহাস তার আপন মহিমায় উজ্জীবিত হয়। কারন সত্যের কখনো বিনাশ নেই। কোন না কোন ভাবে সে জীবন্ত হয়ে উঠে।
মরহুম এ বি এম আচমত আলী আকন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথমে কেবল নিজ পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজন এবং নিজস্ব পরিমন্ডলের কতিপয় ব্যক্তিকে নিয়েই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন।
৭১ এর স্বাধীনতার পূর্বে আমতলী থানা শিক্ষা সংস্কৃতি রাজনীতি ও ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে অন্যান্য থানার চেয়ে তুলনামূলক অনেক এগিয়েছিল। দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা সংস্কৃতি ও প্রগতিশীল রাজনীতির চেতনার একটা সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসবে অনেক আগ থেকেই আমতলী প্রসিদ্ধ ছিল একই ভাবে কলাপাড়াও। আর আমতলী বন্দরটা ছিল যেমন হিন্দু অধ্যুষিত তেমনি কলাপাড়াটা ছিল রাখাইন অধ্যুষিত। আমতলীর ব্যবসা বানিজ্যের সিংহ ভাগই ছিল হিন্দুদের হাতে আর মুসলমানদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বলতে কেবল আকন পরিবার ও মরহুম আফাজ উদ্দিন তালুকদার। হিন্দু পরিবার গুলোর মধ্যে অশ্বিনী কুমার মজুমদার, অক্ষয় কুমার মজুমদার, লোকনাথ শীল, যোগেন্দ্রনাথ শীল, অঞ্জন কুমার কর্মকার, শরৎ চন্দ্র ঠাকুর এবং বীরেন্দ্র বিজয় দাস, ধীরেন্দ্র শেকড় শীল, ভবতোষ বাবু, প্রান বল্লব কর্মকার ও কুন্ড পাল পরিবারের অনেকে। তখন পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুরা রাজনীতিতে খুব গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ করতেন। তবে ব্যবসা ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে আমতলীর হিন্দুদের ভুমিকা ছিল প্রশংসনীয়। পাকিস্তান আমলে হিন্দুদেরকে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকরা কোনঠাসা করে রেখে ছিল, এমনকি তাদের তেমন কোন বাক স্বাধীনতাও ছিল না। তাই তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ছিল গোপনীয় যোগাযোগের ভিত্তিতে। মরহুম এ বি এম আচমত আলী আকন প্রকাশ্যে এদের সবাইকে একত্রে সংগঠিত করে একটা রাজনৈতিক মোর্চা তৈরী করেন যার ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠা পায় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, আমতলী থানা শাখা।
আসমত আলী আকনের রাজনৈতিক প্রাধান সহচর ছিলেন মরহুম আফাজ উদ্দীন বিশ্বাস। অবশ্য মরহুম আফাজ উদ্দীন বিশ্বাস ৬৫ এর আইয়ুব খান বনাম ফাতেমা জিন্নাহ’র নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, ন্যাপ ও কমিউনিষ্ট পার্টি সহ অন্যান্য দলের সমর্থিত সম্মিলিত বিরোধী দল বা Combined Opposition Party -COP (কপ) এর বিপরীতে অবস্থান নিয়ে আইয়ুবে খানের কনভেনশন মুসলিম লীগের আইয়ুব খানকে সমর্থন করেছিলেন এবং তার ধারাবাহিকতায় আমতলী নুর জাহান ক্লাবের সামনে একটা বড় ধরনের ঘটনাও ঘটেছিল। যাই হোক জনাব মরহুম আফাজ উদ্দীন বিশ্বাস সাহেব যেহেতু তখন পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পার্টির নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন সেহেতু সম্মিলিত বিরোধী দল বা কপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হয়েছিল। তবে ৬৫ নির্বাচন পরবর্তী ৬৮ তে এ বি এম আসমত আলী আকনের সাথে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামি লীগের পতাকা হাতে নিয়ে আমতলী থানার সাধারন সম্পাদক হয়েছিলেন বলে মনে পড়ে। এছাড়া আমতলীর আওয়ামী লীগের সম্মুখ সৈনিকদের মধ্যে নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদার, মরহুম আতাহার আকন, গুলিশাখালীর আব্দুল রশিদ মৃধা, অধ্যক্ষ শামসুল আলম তালুকদার, বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এডভোকেট গাজী আনোয়ার হোসেন, মরহুম আতাহার উদ্দিন প্যাদা, দেলোয়ার হোসেন মৃধা, আবদুল লতিফ বিশ্বাস, বর্তমান এমপি বাবু ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, মরহুম মনিরুল ইসলাম (এম আই) তালুকদার, মরহুম মফিজ উদ্দিন খলিফা, প্রমুখ। এখানে উলেখ না করলেই নয় মরহুম মফিজ খলিফাই সর্বপ্রথম আমতলীতে বাংলাদেশের পতাকা নিজ হাতে তৈরী করেছিলেন এবং সেই পতাকা মরহুম এ বি এম আচমত আলী আকনের বাসার সামনে আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্তোলিত হয়েছিল। আমি আমতলী পদার্পণ করার পর সর্বপ্রথম দুইজন ব্যক্তিকেই সার্বক্ষণিক মুজিব কোট পড়তে দেখেছি তাঁরা হলেন এডভোকেট গাজী আনোয়ার হোসেন ও আওয়ামী লীগ পাগল মরহুম মফিজ উদ্দিন খলিফা। তখনকার সময় আওয়ামী লীগ ছিল আমতলীতে ছোট্ট পরিসরের সংগঠন। প্রকৃতপক্ষে ঐ সময় আমতলী বন্দর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ন্যাপ, কমিউনিস্ট, ছাত্র ইউনিয়েনের দখলেই ছিল। আমরা আজ যাদের আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের বড় বড় নেতা বলে জানি তাদের অনেকের রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল ন্যাপ, কমিউনিস্ট ও ছাত্র ইউনিয়নের আদর্শ থেকে। শ্রদ্ধাভাজন মরহুম মাহবুব আলম ঝন্টু তালুকদার, মরহুম শাহজাহান তালুকদার, মরহুম গাজী আমীর হোসেন, মরহুম জি এম দেলোয়ার হোসেন, সুলতান আহমেদ তালুকদার (পটুয়াখালী ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস ও সাবেক ডিজি রেল), এডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন কিচলু তালুকদার, মরহুম সাত্তার আকন, আঃ আজিজ মেম্বার, স্বর্গীয় এডভোকেট কমল কান্তি দাস (দুলাল), কল্যান কুমার দাস, কৃঞ্চা রানী দাস, জয়নাল আবেদিন, মোফাজ্জেল হোসেন মনা তালুকদার, নুরুল ইসলাম মৃধা, শাহ আলম তালুকদার, প্রমুখ এবং বিশেষ করে কামার পট্টির সব হিন্দু পরিবারে সদস্য আসলে তখন ন্যাপ, কমিউনিস্ট ও ছাত্র ইউনিয়ন করতেন।
আসলে পাকিস্তান আমলে মৌলিক গনতন্ত্রের যুগে রাজনীতিটা ছিল পরিবার কেন্দ্রীক। এ বি এম আচমত আলী আকন সেই সুবাদে অনেকটা এগিয়ে ছিলেন। একদিকে তাঁর সুদূরপ্রসারী বুদ্ধিদীপ্ত চেতনা ও পরিকল্পনা অন্যদিকে সম্পদশালী হওয়ার কারনে। তাছাড়া উত্তর তক্তাবুনিয়া তালুকদার বাড়ীর মরহুম আলহাজ্ব আবদুল হাফেজ তালুকদার, আলহাজ্ব হাচন আলী তালুকদার এর ভাগ্নে ছিল মরহুম এ বি এম আচমত আলী আকন, মোঃ মুনসুর আলী আকন, মোঃ আবদুল আজিজ আকন। তার উপর এ বি এম আচমত আলী আকন তাঁদের জামাতা হিসেবে তাঁর সাহসের পাল্লাটা ছিল ভারী। আলহাজ্ব আবদুল হাফেজ তালুকদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র শহীদ নাসির উদ্দীন তালুকদার সিএসপি ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের একজন সরকারি বড় কর্মকর্তা। সৎ নিষ্ঠাবান ও ক্ষমতাধর এই সিএসপি কর্মকর্তার ছিল যথেষ্ট প্রশাসনিক বলয়। যা তাঁর চলার প্রতিকূল পথকে কিছুটা সুগম করেছিল। অন্যদিকে আচমত আলী আকন সাহেবের ভায়রাভাই মরহুম আফাজ উদ্দীন তালুকদারের আমতলীতে প্রভাবও তাঁকে শক্তি যুগিয়ে ছিলেন। সব মিলে আমতলীতে তাঁর পায়ের নীচের মাটির ভিতটা ছিল অন্যান্যদের চেয়ে একটু শক্ত।
তবে আওয়ামী লীগের আরো অনেক কৃতি সন্তান ঐ সময় আমতলী থানায় জন্ম গ্রহন করলেও তাঁদের আমতলীতে স্হানীয় পর্যায়ে তখন তেমন ভুমিকা ছিলনা বললেই চলে। কারন তাঁরা ঐ সময় বৃহত্তর বরিশাল জেলা শহরে ও পরবর্তীতে পটুয়াখালী জেলা শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। সাবেক এমপি মজিবর রহমান তালুকদার, সাবেক এমপি মতিয়ার রহমান তালুকদার, সাবেক এমপি নিজামুদ্দিন তালুকদার, এডভোকেট নাসির উদ্দীন তালুকদার (ভিপি বরিশাল বি এম কলেজ ছাত্র সংসদ), আমতলীতে তাঁরা তেমন একটা আসতেন না। তার মানে এই নয় তাদের অবদান ছিলনা। ৭১ এর স্বাধীনতার পরে আচমত আলী আকন ও তাঁর সহযোদ্ধাদের সাজানো বাগানে সেই দূর শহরবাসী শহরমুখী নেতারা এসে আমতলীতে আওয়ামী লীগকে প্রসারিত করেছেন এবং সংগঠনকে জোরদার করেছিলেন বটে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে সেই দুর্গম পথের কঠিন ও শক্ত হালটা যিনি প্রথম ধরেছিলেন তিনি ছিলেন মরহুম এ বি এম আচমত আলী আকন। সে সময় আমতলী বন্দর ছিল তখনকার সময় বামদের প্রধান্য। আজকের অনেক প্রতিষ্ঠিত নেতারাই ছিলেন সেই বাম দলের সংগ্রামী নেতা। বর্তমানে বরগুনা জেলার আওয়ামি লীগ বিএনপির অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক তারকার অধিকাংশই বাম দলের সৈনিক ছিলেন। (১৯৬৫ থেকে ১৯৭১ এবং এর পরে স্বাধীনতা পরবর্তী নেতা ও রাজনীতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিয়ে কিছু লেখার আশা আছে। এখানে অনেকের অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে, আশা করি পরবর্তী সেই লেখায় তার উত্তর সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে)।
মরহুম এবি এম আচমত আলী আকন সাহেব আওয়ামী লীগের আদর্শকে এমন ভাবে আঁকড়ে ছিলেন যে তাঁর আপন জামাতা আমতলীর আর এক বরন্যে পুরুষ চাওড়ার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ফজলুর রহমান তালুকদার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর প্রার্থী হয়ে আমতলী-কলাপাড়া এলাকা থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও এই আচমত আলী আকন তাঁর নিজের আপন জামাতাকে বিন্দু মাত্র ছাড় দেননি। বরং আওয়ামী লীগের পতাকা নিয়ে আপন জামাতার বিরুদ্ধে ছুটে বেড়িয়েছেন আমতলী-কলাপড়ার প্রত্যন্ত এলাকায়। অথচ এই ত্যাগী মহান ব্যক্তির অবদানের কথা কেউ কেউ সম্প্রতি একেবারেই আড়াল করে আওয়ামী লীগের স্মৃতিচারন করেন। এখনোও তাঁর সহযোগী বঙ্গবন্ধুর ত্যাগী সৈনিক মুক্তিযুদ্ধ কালীন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদার ও বঙ্গবন্ধুর পরম স্নেহভাজন জনাব এডভোকেট গাজী আনোয়ার হোসেন জীবন্ত ইতিহাস হয়ে আছেন। এখনই সময় এই মানুষ গুলোর কাছ থেকে আমতলীতে আওয়ামী লীগের প্রকৃত ইতিহাসকে সংগ্রহ করে রাখা। এই মহান বীরদেরকেও জানাই সশ্রদ্ধ লাল সালাম।
আমরা আমতলীর সমস্ত ত্যাগী ও নির্লোভ নেতাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। স্মরণ করছি সেইসব রাজনৈতিক তারকাদের যারা জীবনে মূল্যবান সময় আমতলী তথা বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উৎসর্গ করে গেছেন। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি একাত্তরের স্বাধীনতার জন্যে যারা জীবন দিয়েছেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। মরহুম এ বি এম আচমত আলী আকন ও আমতলীর আওয়ামি লীগ এক অবিচ্ছেদ্য অস্তিত্ব। আজকের প্রজন্মের কাছে এই মহান ব্যক্তির বৈচিত্র্যময় বর্ণাট্য জীবন কাহিনী নিসন্দেহে প্রকৃত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চরিত্র গঠনে উৎসাহিত করবে।
[পরবর্তীতে ধারাবাহিক ভাবে পূর্নাঙ্গ আমতলী আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের রাজনৈতিক তারকা ও সব বরন্যে নেতাদের সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করা চেষ্টা করব। একই সাথে স্বাধীনতা যুদ্ধের খলনায়কদের ভুমিকাও আঁকার চেষ্টা করব। কেউ যদি তথ্য দিয়ে এবং ভুল সংশোধন করে কৃতার্থ করতে চান তাহলে ইনবক্সে দয়া করে সাহায্য করবেন]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২১
Theme Customized BY NetMediaNews